আমার মণি তো কোনো অন্যায় করেনি সে শুধু একটা চাকরি করতে চেয়েছিল

১০ দিনের পুলিশি রিমান্ডে আছেন রাশেদ - কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা রাশেদ খান

0
36
কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা রাশেদ খান
কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা রাশেদ খান

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং অ্যান্ড ইনস্যুরেন্স বিভাগের শিক্ষার্থী রাশেদ খানকে সকালে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা (ডিবি) কার্যালয় থেকে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কার্যালয়ে নেওয়া হয়। এক ঝলক দেখার জন্য সকাল থেকে সালেহা বেগম দাঁড়িয়ে ছিলেন ডিবি অফিসের ফটকে। দেখে মনে হয়েছে, ছেলে ভালো নেই। সর্বস্ব দিয়ে যে ছেলেকে মানুষ করেছেন, তাঁর যে এমন হাল হবে স্বপ্নেও ভাবেননি তিনি। তিন-তিনটি মামলার আসামি এখন রাশেদ খান। তিনি কি মুক্তি পাবেন? কখনো কি তাঁর কায়ক্লেশে চলা সংসারের দায়িত্ব একমাত্র এই ছেলেটি বুঝে নেবেন? এমন হাজারো প্রশ্ন মাথায় ঘোরে সালেহার। কূলকিনারা পান না। শুধু চান, ছেলে ফিরে আসুক।ছেলের মুক্তির জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন রাশেদের মা সালেহা খাতুন। গতকাল শাহবাগে। ছেলের মুক্তির জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন রাশেদের মা সালেহা খাতুন। গতকাল শাহবাগে।

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে তৈরি ছাত্রদের মঞ্চ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খান। বাবা নবাই বিশ্বাস রাজমিস্ত্রি, মা অন্যের বাড়িতে কাজ করেন। রাশেদের দুটি বোন। একজন তাঁর বড়, অন্যটি ছোট। শ্রমজীবী দম্পতি দাঁতে দাঁত চেপে সন্তানদের মানুষ করার চেষ্টা করে গেছেন। রাশেদ খান এতকাল তাঁদের বিমুখ করেননি।

সালেহা বেগম বলছিলেন, ছেলে পঞ্চম, অষ্টম, মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিকে সরকারি ও ব্যাংকের বৃত্তির টাকা পেয়েছেন। আর বাকিটা তাঁরা জুগিয়েছেন ঘাম ঝরিয়ে। ‘এমনও দিন গেছে, রাশেদের আব্বা হয়তো বাজার থেকে পাঁচ কেজি চাল কিনে এনেছে। পরে ছেলে ফোন করে বইখাতা কিনতে টাকা চেয়েছে। চাল ফিরিয়ে দিয়ে তিনি ছেলেকে টাকা পাঠিয়েছেন। শুধু পানি খেয়ে আমরা রাত পার করেছি। এমবিএ ভর্তির সময় ছাগল বিক্রি করেছি। ভেবেছিলাম, পড়াশোনা শেষ। কষ্টের দিনও শেষ। হলো না।’

এখন এই যে তিনি ঢাকায় এলেন, ছেলের জন্য ছোটাছুটির খরচ কী করে চলছে? সালেহা বেগম জানান, ছেলের বাবার কিডনিতে সমস্যা। অস্ত্রোপচারের জন্য কিছু টাকা জমিয়েছিলেন। সেই টাকা ভেঙে ভেঙেই এখন চলছে।

রাশেদ খানের নামে জটিল সব মামলা। মায়ের মাথায় ধরে না। কথার ফাঁকে সালেহা বেগম মামলার কাগজপত্র এগিয়ে দিলেন। তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারার মামলা একটি। এর বাইরে পুলিশের অভিযোগ, রাশেদের প্রত্যক্ষ মদদে, পরিকল্পনায় ও নির্দেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থীরা ৯ এপ্রিল রাত সাড়ে ১২টা থেকে ২টার মধ্যে হাতে লোহার রড, পাইপ, হ্যামার, লাঠি নিয়ে বেআইনি ‘জনতাবদ্ধে’ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনে অনধিকার প্রবেশ করে ভাঙচুর ও মালামাল চুরি করে নিয়ে যান। তাঁর নির্দেশেই ভিসির বাসভবনের আসবাব ভাঙচুর করে আগুনে পুড়িয়ে দেন, সিসি ক্যামেরার রেকর্ড সংরক্ষণের যন্ত্র (ডিভিবার) নষ্ট করে ফেলেন। কোনো স্বার্থান্বেষী মহলকে বিশেষ সুবিধা করে দিতে রাশেদ এসব অপকর্ম করেছেন।

সালেহা বেগম গতকাল বলেন, ‘আমার মণি তো কোনো অন্যায় করেনি। সে শুধু একটা চাকরি করতে চেয়েছিল। সে তো সরকারি চাকরিই করতে চেয়েছিল। সরকারকে ফেলতে যাবে কেন?’

রাশেদের মা সালেহা খাতুন।
রাশেদের মা সালেহা খাতুন।
Payoneer | Get Paid by Marketplaces & Direct Clients Worldwide

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here