ছাত্রী প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখান করায় মাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে গৃহ শিক্ষক

0
42
কুপিয়ে হত্যা
Just Example Photo.

চট্টগ্রামে ছাত্রী প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় বাসায় ঢুকে তার মাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে এক গৃহ শিক্ষক। এ সময় আহত হয়েছেন ছাত্রীর বাবা ও চাচা। মঙ্গলবার বিকেলে নগরের আকবরশাহ থানার বিশ্ব কলোনী বেড়া মসজিদ এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। এ সময় প্রতিবেশীরা ওই শিক্ষককে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে।

নিহত শাহীনা বেগম একই এলাকার জসিম উদ্দিনের স্ত্রী। তাদের নবম শ্রেণি পড়ুয়া মেয়েকে পড়াতেন মো. শাহজাহান। তার বাড়ি মিরসরাই উপজেলার পশ্চিম মিঠানালা গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের জিয়া উদ্দিন ভূঁইয়ার বাড়ির মৃত মোহাম্মদ শাহ আলমের ছেলে। তিনি থাকতেন নগরের আকবরশাহ থানার বিশ্বকলোনী এলাকায়।

পুলিশ জানায়, কয়েক মাস আগে জসিম ও শাহীনা বেগমের মেয়েকে দুই মাস পড়িয়েছিলেন গৃহ শিক্ষক মো. শাহজাহান। এ সময় মেয়েটিকে কয়েক দফা প্রেমের প্রস্তাব দেন তিনি। শিক্ষকের প্রেম প্রস্তাবের বিষয়টি মা-বাবাকে জানালে শাহজাজহানকে বিদায় করে দেওয়া হয়। এরপর বিভিন্ন সময় ফোন করে বিরক্ত করতেন শাহজাহান। এ নিয়ে মেয়ের মা-বাবার সঙ্গে মো. শাহজাহানের কয়েকবার বাকবিতণ্ডা হয়।

আকবরশাহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জসীম উদ্দিন সমকালকে জানান, নবম শ্রেণি পড়ুয়া মেয়েটিকে দু’মাস পড়িয়েছিলেন শাহজাহান। এর মধ্যে একমাসের বেতন বকেয়া ছিল। বেশ কয়েকবার ফোনে সেই টাকা চেয়েছিল শাহজাহান। মঙ্গলবার বিকালে টাকা চাওয়ার অজুহাতে মেয়েটির বাসায় যান। গিয়ে মেয়ের মা শাহীনার কাছ থেকে টাকা চান। এনিয়ে শাহীনা ও শাহজাহানের বাকবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে সঙ্গে নিয়ে যাওয়া বটি দিয়ে শাহীনাকে কোপাতে শুরু করেন শাহজাহান। এ সময় শাহীনাকে বাঁচানোর চেষ্টা করলে স্বামী জসিম ও দেবরকেও আঘাত করেন শাহজাহান। একপর্যায়ে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে তাকে ধরে মারধর করে পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ গিয়ে শাহজাহানকে আটক করে।

তিনি জানান, পরে আহত শাহীনাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। জসিম ও তার ভাইয়ের আঘাত গুরুতর না হওয়ায় তাদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বরত এএসআই আলাউদ্দিন তালুকদার বলেন, বিকাল চারটার দিকে শাহীনা বেগমকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তার শরীর আঘাতে জর্জরিত ছিল। প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে।

আকবরশাহ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মুহিবুর রহমান সমকালকে বলেন, গৃহ শিক্ষক শাহজাহান এক সময় নগরের জিইসি মোড়ে একটি খাবার দোকানে চাকরি করতেন। পরে তা ছেড়ে দেন। এরপর থেকে বিশ্ব কলোনী এলাকায় বিভিন্ন বাসায় গৃহ শিক্ষক হিসেবে ছেলে মেয়েদের পড়াতেন।

Payoneer | Get Paid by Marketplaces & Direct Clients Worldwide

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here